মাসুম আল ইসলাম, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ কৃষি প্রধান বাংলাদেশে কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্জিত ফসলের ভোক্তা দেশের মানুষ। কৃষক কৃষি জমি থেকেই কৃষজ পণ্য সংগ্রহ করে থাকেন। কৃষি জমি হুমকির মুখে থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হোগলাকান্দি গ্রামের একাধিক কৃষক পরিবার। রাঘব-বোয়াল ম্যানেজ করে একই স্থান থেকে পাশাপাশি ৪টি ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে রয়েছে, আশে পাশের কয়েক একর কৃষি জমি, অভিযোগ কৃষক ও এলাকাবাসীদের। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ প্রশাষণের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাঘব-বোয়ালদের ম্যানেজ করে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন পৌর সভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসীন্দা মমিন কাজী।

সরেজমিনে দেখতে পাওয়া যায়, প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বে কৃষি জমির মধ্য দিয়ে ৪টি পাইপ যোগে কুমার নদ থেকে বালু উত্তোলন করে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাস ষ্ট্যান্ডের অদূরে মহাসড়ক সংলগ্ন স্থানে বালু ভরাট করা হচ্ছে প্রায় অর্ধাধীক মাস যাবৎ। এবিষয়ে কৃষক ও এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, নদী (কুমার নদ) থেকে ডিসির (জেলা প্রশাষক) কথা বলে বালু উত্তোলন করায় আমাদের কৃষি জমি হুমকির মুখে রয়েছে। কেউ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বালু ব্যবসায়ী মমিন কাজীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী মোঃ সেলিমুজ্জামান আমাকে কাজের অনুমতি দিয়ে কাজটি করতে বলেছিলেন। তবে কাজের অনুমতির বিষয়ে অস্বীকার করে ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী মোঃ সেলিমুজ্জামান বলেন, আমি কাউকে অনুমতি দেইনি। অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শণ শেষে মুঠোফোনে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অবগত করা হলে তিনি ছুটিতে থাকায় ইউ এন ও’কে বিষয়টি তাৎক্ষণিক অবগত করতে বলেন। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ এন ও) মুক্তাদিরুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাষক স্যারের কাজ হলেও সেটা ব্যাক্তিগত কাজ, কাজের জন্য সেখানে পে (টাকা প্রদান) করা হচ্ছে, তবে নদী গর্ভ থেকে কেউ ব্যাক্তিগতভাবে বালু উত্তোলন করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, বালু উত্তোলন কারীর বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। প্রশাষণের সঠিক তদন্ত অনুসারে দেশ ও এলাকার মঙ্গলার্থে যাবতীয় আইনানুগ হস্তক্ষেপের দাবী সুশীল সমাজের।