মাসুম আল ইসলাম, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:- ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সরকারী বিধি-নিষেধ তোয়াক্কা না করেই কতিপয় শিক্ষক চালাচ্ছেন প্রাইভেট-কোচিং বাণিজ্য। আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় থামছেই না অসাধু শিক্ষকদের এই কর্মকান্ড, শ্রেণী কক্ষে চলছে ঢিলেঢালা ভাবে পাঠদান, বিপাকে দরিদ্র-মেধাবী শিক্ষার্থী সহ অভিভাবকবৃন্দ। শ্রেণী শিক্ষকদের নিকট প্রাইভেট পড়লে পাচ্ছে বাড়তি সুযোগ-সুবিধা, যা শিক্ষার্থীর মনোভাব বিকশিত হওয়ার আগেই অঙ্কুরে ভেঙ্গে পড়ছে শিক্ষার মেরুদন্ড, শিক্ষার ব্যবহার হচ্ছে অনৈতিকতায়। যার ফলে, দিনকে দিন বেড়েই চলছে শ্রেণী শিক্ষকদের প্রাইভেট-কোচিং বাণিজ্য।
এ বিষয়ে ইতি মধ্যে সরেজমিনে পাওয়া যায়, ০৩ নং সদরদী রায়পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারী বিধি-নিষেধ থাকা সত্বেও শ্রেণী শিক্ষকরা নিয়মিত ভাবেই ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পড়াচ্ছেন শিক্ষার্থীদের।
রায়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: মোখলেছুর রহমান বলেন, “আমি বেশ কিছু দিন প্রায় পাঁচ-ছয় মাস পড়াইনি, আমাদের যে নীতি মালা আসছে ১০ জনের বেশী পড়াইতে পারবো না। আমার এখানে ৭-৮ জন শিক্ষার্থী আছে।”
রায়পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শারমীন আক্তার বলেন, “আমি কয়েকজন প্রাইভেট পড়াই, কোচিং করাইনা। দেখাগেছে যে এভ্যাইল্যাবল সবাই পড়ায় তাই, আমিও পড়াই। ”
০৩ নং সদরদী রায়পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলীপ কুমার সাহাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমি নিষেধ করছি কিন্তু, তারা শুনে না।”
০৩ নং সদরদী রায়পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো: কামরুজ্জামান বলেন, “গবমেন্ট (সরকার) এ নিয়ম চালু কইর‌্যা আমি অইলো মানে লিগ্যাল যেইড্যা রেয়ার বলতেছি, যারা গারজিয়ান আছে এদেরকে ভোগান্তিতে ফেলাইছে।”
এ ব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে উপজেলা মাধ্যমিক স্কুলের একাডেমিক সুপারভাইজার প্রলাদ বিশ্বাস বলেন, “মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অসুস্থ্য। আমি রবিবার পরিপত্র দেখে আপনাদের জানাতে পারব।”
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: রফিকুল ইসলাম জানান, “আমি গত মিটিংয়েও এ বিষয়ে সকলকে অবগত করে নিষেধ করেছি।”