Spread the love
image_pdfimage_print

সোহেল খান : রাজবাড়ী বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি : আজকের ঘটনা :

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও দেশের সর্ববৃহৎ রামায়ন, মহাভারত, শিবপুরান ও পৌরানিক কাহিনী অবলম্বনে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের আলোকদিয়া-গ্রামজামালপুর সার্বজনীন শারদীয় দুর্গা পূজার আয়োজন করা হয়েছে। দুর্গা মন্দিরে প্রবেশের পুর্বে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার দুটি সড়ক। মন্দিরে প্রবেশের পুর্বেই চোখে পড়বে বাংলাদেশের সবুজ-শ্যামলিমা, পাহাড়-পর্বত দিয়ে সাজানো ও সৌন্দর্য মন্ডিত। প্রবেশ পথের প্রথম মন্দিরে প্রবেশ করেই দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন, রামায়নের কাহিনী। রাজা দশরত, রাম, লক্ষণ, ভরত, শত্রুঘœ, বৈশিষ্ট মনি, রাজার ৩ রানী কৈশলা, সুমিত্রা, বাল্মিকী মনি, লককুশসহ রামায়নের কাহিনীর চরিত্র গুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় মন্দিরে প্রবেশ করে দেখতে পাবেন, শিবপুরান, শিবের ঘাম হতে ঘোড় দৈত্যের তৈরী , ঘোড় দৈত্য মহামায়ার রুপ ধারণ করে মহামায়ার প্রতি কুনজরে তাকানো, মহামায়া কালিরুপ ধারন করে ঘোড় দৈত্যকে বদ। তৃতীয় মন্দিরে প্রবেশ করতেই দেখা মিলবে শ্রীকৃষ্ণ, বলরাম, গুরুগৃহে অস্ত্র শিক্ষার জন্য গেল। গুরুর কাছে অস্ত্র শিক্ষা গ্রহন করে তাকে দক্ষিণা দিতে যায়। গুরু দক্ষিণা না নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের কাছে দক্ষিণা সরুপ বহুদিন পুর্বে তার পুত্র সমুদ্রে ¯œান করতে গিয়ে হারিয়ে গেছে সেই ছেলেকে ফেরত চায়, গুরুর আদেশে শ্রীকৃষ্ণ তার দক্ষিণা ফেরত দিতে সমুদ্র দেবের কাছে যায়। সমুদ্র দেব বললো সে আমার কাছে নেই, সে আছে শঙ্ক রাজের কাছে, শঙ্ক রাজের সাথে শ্রীকৃষ্ণের যুদ্ধ। যুদ্ধ শেষে সে বললো তার গুরু ভ্রাতা আছে জমালয়ে, সেখানে যমরাজের সাথে যুদ্ধ, যুদ্ধ করে যমরাজের কাছ থেকে বিষ্ণুরুপ ধারন করে গুরু ভ্রাতাকে উদ্ধার করা। সেই গরু ভ্রাতাকে নিয়ে পুনরায় গুরুগৃহে গিয়ে ফেরত দিয়ে গুরুর আশিবার্দ নিলো। চতুর্থ মন্দিরে প্রবেশ করতেই দর্শনার্থীদের চোখে পড়বে ঘোড় দৈত্য বদ, ঘোড় দৈত্যের সাথে শ্রীকৃষ্ণের যুদ্ধ , শ্রীকৃষ্ণের সাথে মহাদেবের যুদ্ধ, সেখানে বিষ্ণু, নারায়নী নারদ সকলেই ঘোড় দৈত্যের উদ্ধারের জন্য মহাদেবকে ঘুমিয়ে ঘোড় দৈত্যেকে উদ্ধার করে। পাতালপুরে মহিরাবন বদ। কুরুক্ষেত্রে অভিমান্য বদ। সেখানে চক্র গুহ আছে। সেই চক্র গুহ একটা পদ্মে ব্রক্ষ্ম্রা, বিষ্ণু, শীব বসে আছে জলের মধ্যে। শ্রীকৃষ্ণের রাস লীলা। হিমালয় পর্বতে মহাদেব, আর মহাসমুদ্রে নারায়নসহ প্রায় আড়াই শতাধিক দেব-দেবীর মুর্তি । সব মন্দিরের মাঝে দুর্গা মন্দির দিয়ে সাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রাম জামালপুর শারদীয় দুর্গা মন্দিরের সাধারন সম্পাদক গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাস।
তিনি আরো জানান, প্রতি বছরই দর্শনার্থীদের জন্য একটু ব্যাতিক্রম আয়োজন করা হয়। এবারও ব্যাতিক্রম আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের ভীড় বাড়ছে।
গ্রামজামালপুর-আলোকদিয়া সার্বজনীন দুর্গাপুজা মন্দির কমিটির সভাপতি বিধান কুমার ভট্রাচার্য্য জানান, প্রতিদিনই দর্শনার্থী ও পুজারীদের ভীড় বাড়ছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রশাসনের সাথে কথা বলে দর্শনার্থীদের জন্য মন্ডপটি আরো কয়েকদিন রাখার চিন্তা রয়েছে।
উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক সনজিৎ কুমার দাস জানান, বালিয়াকান্দির আলোকদিয়া-গ্রামজামালপুর দুর্গা মন্দিরে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ব্যাতিক্রম আয়োজন করা হয়েছে। দর্শনার্থী ও পুজারীদের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করেছে প্রশাসন। এবছর এ মন্দিরে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থী ও পুজারীদের ভীড়।
বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ হাসিনা বেগম জানান, উপজেলাতে ১৪৪টি মন্দিরে দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি মন্দিরেই নিরাপত্তা প্রদানের জন্য সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।