Spread the love
image_pdfimage_print

সত্য কথাও সব পরিস্থিতিতে বলতে নেই; বেঁফাস কথা তো নয়ই। কিন্তু বেচার ব্র্যাড হজের সেটা হয়তো মনে ছিল না। তাই ফক্স স্পোর্টসের কাছে সাক্ষাতকার দিতে গিয়ে মুখ ফসকে বলে ফেলেছিলেন, ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি নাকি আইপিএল খেলার জন্য শেষ টেস্টে খেললেননি!

বলার পর বুঝলেন যে কী ভুল করেছেন। কারণ তিনি নিজেই তো আইপিএলে গুজরাট লায়ন্সের কোচ! এমন কথা বললে চাকরি টিকবে?

আসলে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার এই সিরিজ নিয়ে শুরু থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে দুই দেশের সাবেক ক্রিকেটার আর সমর্থকদের মধ্যে। ব্যাঙ্গালোর টেস্টে সেই ডিআরএস কেলেঙ্কারির পর তো দুই বোর্ডের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। বিবাদ থামাতে হস্তক্ষেপ করতে হয় আইসিসিকে। বোর্ডের বিবাদ থামার পর দুই দেশের মিডিয়ার মধ্যে শুরু হয় লড়াই। যার ধারাবাহিকতা সিরিজ শেষ হওয়ার পরও বিদ্যমান। তবে ধর্মশালা টেস্টের আগে ইনজুরিতে পড়া কোহলির অবস্থা সত্যিই গুরুতর ছিল। এতটাই গুরুতর ছিল যে, যতটা গুরুতর থাকলে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে অধিনায়ক মাঠে নামতে পারেন না। এমতাবস্থায় হজের এই বক্তব্য যে বিস্ফোরণ ঘটাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

হয়েছেও তাই। “একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমি ভাবতে চাই, কোহলির আঘাতটা গুরুতর। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে না খেলে পরের সপ্তাহেই যদি আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে সে মাঠে নামে, তাহলে সেটা হবে খুবই বাজে একটা ব্যাপার। ” – হজের এই বক্তব্যের পর সোশ্যাল সাইট উত্তাল হয়ে ওঠে। ভারতীয় সমর্থকরা আক্রমণে জর্জরিত করেন হজকে। এমনকী তার কোচের চাকরিও ঝুঁকির মুখে পড়ে। বিপদ বুঝতে পেরে হজ কোহলি এবং ভারতের জনগনের কাছে ক্ষমাই চাইলেন।

সোশ্যাল সাইট টুইটারে তিনি ক্ষমা চেয়ে লিখেন, “কারও ক্ষতি করার জন্য বা কাউকে ছোট করতে আমি আমার মন্তব্যটি করিনি। এটি হালকা মেজাজের মন্তব্য ছিল। আমি আইপিএল দারুণ উপভোগ করি। আইপিএলের পূর্ণ মর্যাদা রেখেই আমি আমার আগের মন্তব্যের জন্য ভারতের জনগণ, সাধারণ ক্রিকেট অনুরাগী, ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দল ও বিশেষ করে বিরাট কোহলির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। মন্তব্যটি করে আমি যে পাল্টা আক্রমণের শিকার হয়েছি, তাতে আমার এই ক্ষমা প্রার্থনার মধ্য দিয়েই সবকিছুর সমাপ্তি ঘটবে বলে আমি মনে করি। “